বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি, নিহত সেনাদের সমাধি নিয়ে মহড়া যুক্তরাষ্ট্রের

সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য নিহত হলে তাঁদের মরদেহ কীভাবে সংরক্ষণ ও সমাহিত করা হবে, তা নিয়ে বিশেষ মহড়া চালিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ সামরিক ঘাঁটিতে পরিচালিত এ মহড়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে অস্থায়ী সমাধিস্থল তৈরি, ভারী যন্ত্রের সাহায্যে দ্রুত মাটি খনন এবং নিহত সেনাদের মরদেহ অক্ষত রাখার পদ্ধতি পরীক্ষা করা হয়। কোরীয় যুদ্ধের পর বড় পরিসরে এ ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।
মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন ড্রাগন কোভেন্যান্ট’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশ হিসেবে এ মহড়া পরিচালিত হয়। এতে থার্ড কোর সাসটেইনমেন্ট কমান্ড, ২০তম ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড এবং সামরিক ধর্মীয় সহায়তা দলের সদস্যরা অংশ নেন।
মহড়ায় মূলত যুদ্ধের তীব্রতার মধ্যে বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য নিহত হলে কীভাবে দ্রুত অস্থায়ী সমাধিস্থল তৈরি করা যায়, তা পরীক্ষা করা হয়। এ জন্য খননযন্ত্র ও ভারী বুলডোজার ব্যবহার করে মাটি খনন ও ভরাটের অনুশীলন করেন সেনাসদস্যরা। পাশাপাশি মাটি চাপা দেওয়ার সময় মরদেহ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টিও পরীক্ষা করা হয়।
মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মহড়ায় প্রকৃত মরদেহের পরিবর্তে কৃত্রিম কঙ্কাল ও পানিভর্তি সিল করা পাত্র ব্যবহার করা হয়। এসব পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল, অস্থায়ীভাবে সমাহিত করার পরও মরদেহের গঠন অক্ষত রাখা, যাতে যুদ্ধ শেষ হলে ফরেনসিক ও নৃতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা সেগুলো উদ্ধার করে পরিচয় শনাক্ত করতে পারেন। এরপর যথাযথ মর্যাদায় দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।
মহড়ায় অংশ নেওয়া থার্ড কোর সাসটেইনমেন্ট কমান্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস ডেলবার্ট রুয়েড বলেন, উচ্চমাত্রার সংঘাতের পরিস্থিতিতে নিহত সেনাদের মরদেহ কীভাবে সম্মানজনক ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায়, তা যাচাই করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, আগামীকালই যুদ্ধ শুরু হলে আগে থেকে প্রস্তুত পদ্ধতি না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হতো। তাই বৈজ্ঞানিক ও পরীক্ষিত পদ্ধতি তৈরি করে প্রতিটি মরদেহের হিসাব সংরক্ষণ এবং যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করাই এ মহড়ার লক্ষ্য।
এদিকে মহড়ায় অংশ নিয়েছেন সামরিক ধর্মীয় গুরু ও ধর্মীয় সহায়তা দলের সদস্যরাও। দুই দশকের বেশি সময় পর এই প্রথম তাঁরা যুদ্ধক্ষেত্রে অস্থায়ী সমাধিস্থলের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ও সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
মার্কিন সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইরাক ও আফগানিস্তানে দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানের সময় নিহত সেনাদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে বড় পরিসরে অস্থায়ী সমাধিস্থল তৈরির প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘাতের সময় আকাশপথে মরদেহ সরিয়ে নেওয়া সম্ভব না হলে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে, তা বিবেচনায় নিয়েই নতুন করে এ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর বড় পরিসরে যুদ্ধক্ষেত্রে অস্থায়ী সমাধিস্থলের এমন অনুশীলন করেনি মার্কিন সেনাবাহিনী। ওই যুদ্ধে প্রায় ৩৭ হাজার মার্কিন সেনা নিহত হন। যুদ্ধের অভিজ্ঞতার পর নিহত সেনাদের মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্ত এবং দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত বিবৃতিতে এই মহড়াকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। বরং ভবিষ্যতে বড় পরিসরের যেকোনো সামরিক সংঘাত এবং বিপুল প্রাণহানির পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে এর কথা বলা হয়েছে।



